প্রতিনিধি দিনাজপুর
২৩ জানুয়ারি ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মা-বোনেরা নিজেদের প্রয়োজনের তাগিদে মেধার ভিত্তিতে সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সমাজে তাঁদের জন্য নিরাপদ সম্মানের জায়গা নেই। তাঁরা ঘরেও নিরাপদ নন, তাঁরা চলাচলে নিরাপদ নন এবং তাঁরা কর্মক্ষেত্রেও নিরাপদ নন। মায়েরা আমাদের সম্মানের জাতি। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মায়েদের সম্মানের মূল্য আমাদের কাছে অনেক বেশি।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা কথা দিচ্ছি, হে বাংলাদেশ, আমরা তোমাদের এমন একটা মায়ের জাতি উপহার দেব ইনশা আল্লাহ, যাঁরা ঘরে, যাতায়াতে এবং কর্মস্থলে পূর্ণ মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবেন। সেখানে তাঁরা সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সম্পূর্ণ সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন। আমরা তাঁদের মাথার তাজ হিসেবে মাথায় তুলে রাখব। একদল দুর্বৃত্ত বলে, আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, সরকার গঠন করি, মা-বোনদের আমরা ঘরে বন্দী রাখব। যারা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতি আজকের নারী সমাজের সমর্থন দেখে ভীতসন্ত্রস্ত, তারাই এসব কথা বলে।’
জামায়াতের আমির বলেন, ‘দিনাজপুরকে গণ্য করা হয় বাংলাদেশের শস্যভান্ডার হিসেবে। সারা বাংলাদেশের খাদ্যের তিন ভাগের এক ভাগ জোগান দেয় বৃহত্তর দিনাজপুর। এই জেলা নিজের উর্বর মাটিতে কঠোর পরিশ্রম করে বাংলাদেশকে যুগের পর যুগ দিয়ে চললেন। বাংলাদেশ দিনাজপুরকে কী দিল? বৃহত্তর জেলা হিসেবে অনেক জায়গায় সিটি করপোরেশন হয়েছে। আপনারা কি সিটি করপোরেশন পেয়েছেন? পান নাই কেন? আমরা এই বৈষম্যকে খতম করব ইনশা আল্লাহ। আপনাদের ভালোবাসায়-সমর্থনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী যদি দেশসেবার সুযোগ পায়, সরকার গঠনের সুযোগ পায়, আমরা আপনাদের অত্যন্ত আস্থার সঙ্গে আশ্বস্ত করছি, দিনাজপুর শহর ইনশা আল্লাহ সিটি করপোরেশনে রূপান্তর করা হবে। সিটি করপোরেশন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকগুলো উন্নয়ন অটোমেটিক্যালি দিনাজপুর শহর পেয়ে যাবে।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ঘোষণা করেছি, চাঁদা আমরা নিই না এবং কোনো চাঁদাবাজকে আমরা চাঁদা নিতে দেব না। যারা নেয় না, তারাই কথা বলতে পারবে। যারা নেয়, তারা এই কথা বলার সাহস রাখে না। আমরা বলেছি সব ধরনের দুর্নীতি বন্ধ হবে। দুর্নীতি আমরা তো করবই না, করার প্রশ্নই ওঠে না। এই সোনার বাংলাদেশে আর কাউকে দুর্নীতি করতে দেওয়া হবে না।’ তিনি বলেন, ‘আপনার ভোট আপনি দেবেন, যাকে পছন্দ তাকেই দেবেন। একদল দুষ্ট বলত, আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব—ওইটা শেষ। তোরটা তুই দে, আমারটা আমি দেব।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, ‘আমরা ওই বাংলাদেশ করতে চাই, যেখানে বিচার অর্থের বিনিময়ে কেনা যায় না। যেখানে বিচার গরিব, ধনী, শিক্ষিত, স্বল্পশিক্ষিত কিংবা শিক্ষার আলোবঞ্চিত সবার জন্য সমান হবে। ওই বাংলাদেশ চাই, যেখানে ধর্মে ধর্মে আর কোনো সংঘাত হবে না; বরং একই বাগানের বিভিন্ন জাতের গাছ হিসেবে আমরা পরস্পর সহাবস্থান করব সম্মান এবং ভালোবাসা নিয়ে। আমরা ওই বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেই বাংলাদেশের টাকা চুরি করে আর বিদেশের মাটিতে বেগমপাড়া গড়ার স্বপ্ন কেউ দেখবে না। বেগমপাড়ার চোরদের ধরে এনে বাংলাদেশে শাস্তি দেওয়া হবে, ওই বাংলাদেশকে আমরা দেখতে চাই।’






