নিজস্ব প্রতিবেদক
২২ এপ্রিল ২০২৬
দেশে জ্বালানি তেলের কোনও প্রকৃত সংকট নেই, বরং এটি ‘কৃত্রিম’—এমন দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। একইসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, সরকার আগামী মে মাস পর্যন্ত জ্বালানির চাহিদা নিশ্চিত করেছে এবং জুন-জুলাইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনীত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, গতবছরের তুলনায় বর্তমানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। তার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩২ হাজার ২৭১ টন ডিজেল, ৪২ হাজার ৩০০ টন অকটেন, ১৮ হাজার ৪৪০ টন পেট্রোল এবং ১৯ হাজার ৪৩৯ টন জেট ফুয়েল মজুত রয়েছে। এছাড়া মেরিন ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত মজুত আছে।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের তুলনায় ২০২৬ সালে দৈনিক ডিজেল সরবরাহ প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, পেট্রোল ৩৩ দশমিক ৬ শতাংশ এবং অকটেন ২৬ শতাংশ বেশি দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী অভিযোগ করেন, অসাধু চক্র কৃত্রিমভাবে পাম্পে লাইন তৈরি করে ‘ইনফর্মাল’ বাজার বা কালোবাজার সৃষ্টি করছে। এতে প্রকৃত ভোক্তারা জ্বালানি পেতে সমস্যায় পড়ছেন। তিনি সাংবাদিকদের এ বিষয়ে অনুসন্ধানের আহ্বান জানান।
জ্বালানি পাচার ও মজুতদারির বিরুদ্ধে প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে বলেও জানান তিনি। ইতোমধ্যে বিপুল পরিমাণ তেল উদ্ধার করে বাজারে সরবরাহ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
এদিকে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে জ্বালানির মজুত ছিল মাত্র সাত দিনের। পরবর্তী সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালীর ঝুঁকির কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেলের দাম গত দুই মাসে ১৪২ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম ৩৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়লেও বাংলাদেশে তা ১০ থেকে ১৬ শতাংশের মধ্যে রাখা হয়েছে। কৃষকদের সেচ বিবেচনায় প্রথম ৪৫ দিন কোনও মূল্য বৃদ্ধি করা হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত ও পাচারের ঘটনা ধরা পড়ছে—কোথাও পানির ট্যাংকে, কোথাও বাসাবাড়িতে এমনকি অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করেও তেল পাচারের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসবের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে ঢাকায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল পাস’ চালু করা হয়েছে, যা পর্যায়ক্রমে সারাদেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকট সমাধানে সব পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিরোধী দলকেও সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি।
জা ই / এনজি





