প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের আওতায় মরক্কোর সৈন্যদের থাকার জন্য ১৫০ জনের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি প্রাথমিক সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ করা হবে। চুক্তিটি লুইজিয়ানা-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আর্কেল ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এর আগে ইরাকে মার্কিন সরকারের সঙ্গে কাজ করেছে। তবে চুক্তিটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
বোর্ড অব পিসের সভাপতিত্ব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এর নেতৃত্বে রয়েছেন ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী স্টিভ উইটকফ।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য চুক্তিটি ইন্টারন্যাশনাল মোবিলাইজেশন ফোর্সকে (আইএসএফ) সহায়তা করার জন্য বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ-সংক্রান্ত। এটি রোডম্যাপের নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থা বাস্তবায়নে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, এই চুক্তিটি গাজার ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য বহু চুক্তির মধ্যে অন্যতম হবে।
এর আগে গত জুলাইয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বোর্ডের মূল গাজা পুনর্গঠন প্রকল্পটি সমগ্র অঞ্চল পুনর্নির্মাণের একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা থেকে নাটকীয়ভাবে সংকুচিত হয়ে ভূখণ্ডটির দক্ষিণে একটি ছোট পরীক্ষামূলক প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।
সূত্রটি জানিয়েছে, বর্তমানে যে ঘাঁটির পরিকল্পনা করা হচ্ছে, সেটির আয়তন হবে ১০০ মিটার বাই ১২০ মিটার। সেখানে মরক্কোর সৈন্যদের একটি দল মোতায়েন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তারা ইসরায়েলের একটি ঘাঁটি থেকে পালাক্রমে সেখানে দায়িত্ব পালন করবে। এটি গাজার সেই ৬০ শতাংশ ভূখণ্ডে অবস্থিত হবে, যা বর্তমানে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সরাসরি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর বাইরে ইসরায়েলি বাহিনী একটি বাফার জোনও তৈরি করেছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ঘাঁটিটি ইসরায়েলি সীমান্ত থেকে প্রায় এক মাইল দূরে অবস্থিত হবে। সেখানে অবস্থানরত বাহিনী আক্রমণের শিকার হলে দ্রুত সরে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।
বোর্ড অব পিসের অধীনে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী গাজার জন্য একটি ‘ইন্টারন্যাশনাল মোবিলাইজেশন ফোর্স’ (আইএসএফ) গঠনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে কোন কোন দেশ সৈন্য সরবরাহ করবে, সে বিষয়েও বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে। বাহিনীতে মরক্কো একটি ছোট দল পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তবে আইএসএফের আইনি কাঠামো এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এমনকি বাহিনীটি কবে থেকে মোতায়েন করা হবে, তাও স্পষ্ট নয়।
দ্য গার্ডিয়ানের যাচাই করা নথিতে বলা হয়েছে, ১৫০ জনের এই ঘাঁটিটি ছিল আইএসএফের জন্য গাজায় ৫ হাজার সদস্যের একটি সামরিক ঘাঁটি নির্মাণ পরিকল্পনার প্রথম ধাপ।
এই ঘাঁটিতে সামরিক যানের অবস্থানের ব্যবস্থা এবং উঁচু প্রতিরক্ষামূলক বাঁধ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি মোতায়েনের উপযোগী মৌলিক সুযোগ-সুবিধাও রাখা হবে। আগের চুক্তিতে বলা হয়েছিল, প্রথম পর্যায়ে সেনাদের থাকার জন্য তাঁবু, খাট, শৌচাগার এবং হাত ধোয়ার স্টেশন থাকবে।
উল্লেখ্য, ইসরায়েলের হামলায় গাজার অন্তত ৮০ শতাংশ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধবিরতির ১০ মাস পরও এই অঞ্চলের ২০ লাখ মানুষের বেশিরভাগ অস্থায়ী ও অস্বাস্থ্যকর শিবিরে বসবাস করছে।
সূত্র : দ্য গার্ডিয়ান
আ ই / এনজি






