রাত ৮:৫০ | মঙ্গলবার | ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৭ আশ্বিন, ১৪৩৩, শরৎকাল | ১০ রবিউস সানি, ১৪৪৮

গণতান্ত্রিক পরিবেশে সরকারের সমালোচনার অধিকার সবার রয়েছে: রিজভী

নিজস্ব প্রতিবেদক

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

 

 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, গণতান্ত্রিক পরিবেশে সরকারের সমালোচনা করার অধিকার সবার রয়েছে। তবে সরকারের বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পরিবর্তে দেশের চলমান সংকটের বাস্তব কারণগুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বিরোধী দল সংসদের ভেতরে ও বাইরে জোরালো সমালোচনা করতে পারে। বিরোধী দল লং মার্চসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে। কিন্তু এসব কর্মসূচিতে সরকার বা সরকারের পক্ষের কেউ বাধা দিয়েছে- এমন ঘটনা ঘটেনি।

আজ দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত ‘গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সরকার ও বিরোধী দলের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয় প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, বাংলাদেশকে প্রতি লিটার ডিজেল প্রায় ২০৫ টাকা দিয়ে কিনতে হয়, অথচ জনগণের কাছে তা ১১৫ টাকায় বিক্রি করা হতো। এতে প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা লোকসান হতো। সম্প্রতি মূল্য সমন্বয়ের পরও প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ টাকা লোকসান দিতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, নেপাল, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, ফিলিপাইন ও ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে ডিজেলের দাম এখনও কম। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রিজভী বলেন, যেখানে কোনো পণ্যের দাম বেশি এবং অন্যত্র কম, অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহ অনুযায়ী পণ্যটি কম দামের স্থান থেকে বেশি দামের স্থানে চলে যায়। জ্বালানি তেলের ক্ষেত্রেও একই ধরনের প্রবাহ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সাম্প্রতিক বিভিন্ন সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা প্রসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে আগুন, ট্রেনে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় কারা জড়িত, সেগুলো সবার সামনে উন্মোচিত করতে হবে।

তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি বা চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যারা লং মার্চ করছেন, তাদের এসব ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধেও লং মার্চ, প্রতিবাদ সভা বা বিক্ষোভ মিছিল করা উচিত।

সরকারের কার্যক্রম নিয়ে অপপ্রচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অপপ্রচারের কারণে একটি ন্যায়সঙ্গত সরকারি কার্যক্রম বা সরকার পরিচালনার কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বর্তমানে দেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক খাতকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। একে একে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংকগুলো একীভূত করা হয়েছে এবং আমানতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বরাদ্দের মাধ্যমে তাদের টাকা পাচ্ছেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভও আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশ গ্যাস ও জ্বালানি তেল কেনার সক্ষমতা অর্জন করেছে।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়কারী ব্যারিস্টার নাসিম খান এবং সঞ্চালনা করেন জোটের মুখপাত্র এস এম শাহাদাত। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

 

 

জা ই / এনজি