রাত ১০:৩১ | রবিবার | ৯ আগস্ট, ২০২৬ | ২৫ শ্রাবণ, ১৪৩৩, বর্ষাকাল | ২৫ সফর, ১৪৪৮

কলকাতায় মমতার ওপর হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কলকাতায় মমতার ওপর হামলা, অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের গাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। রোববার রাজ্যের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় অজ্ঞাতপরিচয় কিছু দুষ্কৃতকারী তার গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। মমতা বলেছেন, এই হামলায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি।

দেশটির সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পুলিশ হেফাজতে নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠা দলীয় এক কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। বিক্ষোভকারীরা তৃণমূল নেত্রীর গাড়ি ঘিরে ফেলেন এবং গাড়ির গ্লাসে কাদা ছিটিয়ে দেন

‌‌‘‘গাড়ির কাচ বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে চৌচির হয়ে যেত। আমি মারাও যেতে পারতাম। জীবনে কখনো এমন হামলার মুখে পড়িনি। পুলিশ আমাদের সুরক্ষায় কিছুই করেনি। তারা শুধু বিজেপিকে সুরক্ষা দেয়।’’

মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা লোকসভার সংসদ সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি এবং রাজ্যসভার সংসদ সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, পুলিশকে ব্যবহার করে (মুখ্যমন্ত্রী) শুভেন্দু অধিকারী কলকাঠি নাড়ছেন।

পশ্চিমবঙ্গ নির্বাচনে দলের শোচনীয় পরাজয়ের পর মমতার ভাতিজা ও তৃণমূল সংসদ সদস্য অভিষেক বন্দোপাধ্যায় নিজের নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার কয়েক মাসের মাথায় এই হামলার ঘটনা ঘটল।

পুলিশ হেফাজতে মারা গেছেন বলে অভিযোগ ওঠা সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বিরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রোববার সকালে উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলায় যান মমতা। চাঁদাবাজির অভিযোগে কেওটকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং গত শুক্রবার আদালত তাকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়ে দেন। কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মা অভিযোগ করে বলেন, তার স্বামীকে কারাগারে নির্যাতন করে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশের তীব্র সমালোচনা করে অভিষেক বন্দোপাধ্যায় বলেন, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেওটকে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। তৃণমূলের এই নেতা বলেন, এফআইআরে নাম না থাকার পরও রাজ্য যখন একজন মানুষকে হেফাজতে নিতে পারে এবং তিনি আর জীবিত ফিরে আসেন না; তখন প্রশ্নটি কেবল আর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি সরাসরি আইনের শাসন নিয়েই প্রশ্ন তোলে।

 

 

সূত্র: এনডিটিভি।

আ ই / এনজি