রাত ৪:৪৮ | সোমবার | ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ | ৩ কার্তিক, ১৪৩৩, হেমন্তকাল | ৭ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮

আগের স্বৈরাচারের পথেই হাঁটছে বিএনপি সরকার : জামায়াত আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের পথেই বিএনপি সরকার হাঁটছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে আয়োজিত মুক্ত আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার এক বছর সালতামামি’ শীর্ষক এ আয়োজন করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।

বিএনপি রাতারাতি অতীত ভুলে গেছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত বিএনপি আমাদের মতোই একটি দল ছিল। এরপর থেকেই রাতারাতি নিজেদের অতীত ভুলে গেছে দলটি। আমাদের কিছু কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের ব্যাপারে কোনো ভিন্নতা ছিল না তাদের। আমরা চেয়েছিলাম গণভোট আগে হোক, তাহলে এটি অনিশ্চয়তায় পড়বে না। কিন্তু তারা এটি চায়নি। বরং জোর করে একই দিনে করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট হলো। এছাড়া একজন সাংসদকে দুটি শপথ নেওয়ার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। অথচ তারা নেননি। আর ওই দিন থেকেই বিএনপি উগ্র।

বিরোধীদলের কোনো এমপি বরাদ্দ দেওয়া হয়নি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এরই মধ্যে সরকারি দলের এমপিদের ২০৮ আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধীদলের একজন এমপিকেও দেওয়া হয়নি। অথচ আমরা ভেবেছি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বস্তাপচা রাজনীতির কবর রচিত হয়ে নতুন রাজনীতির জন্ম হবে। এটিই জনগণের প্রত্যাশা ছিল। তবে দেশকে আবারও সেই দিকেই টেনে নেওয়া হলো। শেষ পর্যন্ত মহিষের ওপরও কর বসানো হয়েছে। গবাদি এ পশুটিও টাকা দিয়ে ঘাস খেতে হয়।

রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় বসে গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে বিএনপি। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, হুবহু একই রাস্তা ধরে এই সরকার হাঁটছে। তাহলে এখন বিরোধীদল কি গালে আঙুল দিয়ে বসে থাকবে। শত ইঞ্জিনিয়ারিং, চুরি-চামাড়ির পরও আমাদের বিরোধীদলে বসিয়েছে জনগণ। এসব আসনের ৮৯ জন এমপি দেশের ১৮ কোটি মানুষের পাহাদার হয়ে কাজ করবেন ইনশা আল্লাহ। আমরা কথা দিচ্ছি, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা আমাদের কথা বদলাবো না। জুলাই সনদ আর গণভোটের গণরায় আমরা আদায় করেই ছাড়বো।

 

 

 

খা সা / এনজি