জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক, নাগোয়া থেকে
বৃষ্টির সঙ্গে ক্রিকেটের বৈরিতা জন্ম থেকেই। কোনো টুর্নামেন্টে চারটি কোয়ার্টার ফাইনালই ভেস্তে যাওয়ার ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে তো নেই-ই, অতীত ঘেটে পাওয়াও দুষ্কর। জাপানের আইচি নাগোয়ায় চলমান এশিয়ান গেমসের ক্রিকেটে এমন কীর্তিই ঘটেছে।
ক্রিকেট এশিয়ান গেমসের অনিয়মিত ডিসিপ্লিন। ২০১০ গুয়াংজু এশিয়ান গেমস থেকেই এর যাত্রা শুরু। এরপর ২০১৪ সালে ইনচোন, ২০২৩ সালে হাংজু এশিয়াডের পর এবারও ক্রিকেট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চীন-জাপান বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশ হলেও তাদের ক্রিকেট অবকাঠামো বেশ দুর্বল। গেমস উপলক্ষ্যেই তারা ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুতি নেয়। সেই প্রস্তুতি যে যথেষ্ট নয় এর বড় উদাহরণ– সামান্য বৃষ্টিতেই ম্যাচ ভেসে যাওয়া।
সেপ্টেম্বর মাসে সাধারণত জাপানের নাগোয়ায় তেমন বৃষ্টি হয় না। এবার নাগোয়ায় যেন বৃষ্টি পিছু ছাড়ছেই না। তবে খুব বেশি মুষলধারে বৃষ্টিও হয় না। সামান্য ইলশেগুড়ি বৃষ্টি হয়। বর্তমানে ঝুম বৃষ্টি থামার পরপরই ক্রিকেট শুরু হয়। সেখানে জাপানে সামান্য বৃষ্টিতেও একের পর এক খেলা পরিত্যক্ত হয়ে যাচ্ছে।
জাপান মূলত ফুটবল, বেসবল ও সুমো কুস্তির জন্য প্রসিদ্ধ। নাগোয়ার নিশিন সিটি করোগি স্পোর্টস পার্কে বেসবল ভেন্যুর মধ্যেই ক্রিকেট মাঠ বানানো হয়েছে গেমসের জন্য। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের মাধ্যমে এখন জাপানে কাজ করছেন। তার তত্ত্বাবধানে উইকেট ও আউটফিল্ড তৈরি হয়েছে।
বৃষ্টির জন্য উইকেট ও এর আশপাশ সাদা কাভারে ঢাকা থাকে। বাউন্ডারি লাইনের আশপাশের জায়গায় সামান্য বৃষ্টিতেই পানি জমে যায়। গ্রাউন্ডসম্যানরা দ্রুত শুকানোর চেষ্টা করলেও বৃষ্টির পানি পড়া শুরু করলেই পানি জমা শুরু হয়। এতেই মূলত একের পর এক ম্যাচ বাতিল হচ্ছে।

কোয়ার্টার ফাইনালের সব ম্যাচ বাতিল হওয়া মাঠের ড্রেনেজ ও টুর্নামেন্ট সিস্টেম নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। আয়োজক কমিটি, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল কিংবা জাপান ক্রিকেট এসোসিয়েশনের কাউকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা যায়নি। কিউরেটর গামিনি ডি সিলভার সঙ্গে কথা হলেও বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালে কিউরেটর গ্রাউন্ডস ইস্যুতে কথা বলতে পারে না। টুর্নামেন্ট শেষে এসব বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে। যেভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এতে খেলা হওয়া কঠিন।’
পাহাড়ি অঞ্চলে অবস্থিত করোগি স্পোর্টস পার্ক। এক পাশে তাবু দিয়ে ড্রেসিংরুম করা হয়েছে। আরেক পাশে কাঠের কয়েকটি স্তর দিয়ে গ্যালারি। দর্শক গ্যালারির উল্টো দিকে কাঠের আরেক স্তর দিয়ে মিডিয়া বক্স। সাংবাদিকদের বৃষ্টিতে মিডিয়া বক্সে যেতে হলে কাদা ও পানি পেরিয়ে যেতে হয়।
বেসবল মাঠ থেকে ক্রিকেটে রূপান্তর নিয়ে তেমন বেশি তথ্য পাওয়া যায়নি। একাধিক দিন ভেন্যুতে গেলেও এই বিষয়ে দায়িত্বরত ব্যক্তিদের পাওয়া যায়নি। আবার যাদের পাওয়া যায় তারা ইংরেজিতে স্বাচ্ছন্দ্য নন এবং মিডিয়ায় বক্তব্য দিতে অপরাগ। গামিনির কাছ থেকে পাওয়া তথ্যমতে, ‘গেমসের জন্য এই বছরই এটা (ক্রিকেট স্টেডিয়াম) হয়েছে। আমি এখানে কয়েক মাস কাজ করেছি। এর বেশি কিছু আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না।’






