জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক

বিরোধী দলের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে দেশের ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগের সরকারি সিদ্ধান্তকে আরেকটি ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর পাঁয়তারা বলে অভিহিত করেছে ১১ দলীয় ঐক্য।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জোটের বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবিধান অনুযায়ী সব পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ার আবশ্যকতা তুলে ধরে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ‘প্রশাসক নিয়োগের মাধ্যমে নতুন কোনো ষড়যন্ত্র হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আমরা অবিলম্বে এই নিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি অভিযোগ করেন, অতীতের মতো মেধাহীনদের দলীয় স্বার্থসিদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তা রাষ্ট্র সংস্কারের পথে বড় বাধা।
রাষ্ট্র সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করে এই জামায়াত নেতা বলেন, বিগত দিনের জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হলে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোতে আসা বিকৃতিগুলো সংশোধন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন- ফ্যাসিবাদের উত্থান রোধে ‘জুলাই সনদ’ সংস্কারের জন্য একটি ঐক্যমত্য কমিশন কাজ করছে। তবে সংস্কারের ক্ষেত্রে সরকারের ‘বেছে বেছে গ্রহণের’ নীতির কঠোর সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাই আদেশ’ এখন জনগণের সম্পদ এবং এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সরকারের নৈতিক ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা।
সংসদীয় কার্যক্রম ও ডেপুটি স্পিকার পদের বিষয়ে তিনি বলেন, “বিএনপি আমাদের ডেপুটি স্পিকারের নাম প্রস্তাব করতে বলেছিল। আমরা চাই তারা উদার হয়ে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে এগিয়ে আসুক। সেখানে স্পষ্ট বলা আছে ডেপুটি স্পিকার বিরোধী দল থেকে হবে। একটি ভারসাম্যপূর্ণ রাষ্ট্র ও ‘চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স’ নিশ্চিত করতে হলে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন– খেলাফত মজলিশের মহাসচিব অধ্যাপক আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব মাওলানা জালালউদ্দিন, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য ড. নেয়ামুল বশির, জাগপা মুখপাত্র রাশেদ প্রধান এবং বাংলাদেশ লেবার পার্টির সভাপতি ড. মুস্তাফিজুর রহমান ইরানসহ এবি পার্টি ও ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা।
মি হো / এনজি






